নিজেকে ভালো রাখাটা খুব একটা কঠিন ব্যাপার নয়!
nijeke valo rakhar upay
কিন্তু আমরা এতটাই দুঃখ পুষে রাখতে ভালোবাসি,
আমরা এতটাই যন্ত্রণা পুষে রাখতে ভালোবাসি, আমরা এতটাই কাঁদতে ভালোবাসি যে নিজেকে "ভালো রাখার" শিল্পসত্ত্বা টাকে হারিয়ে ফেলি.....
কিন্তু দুঃখ, যন্ত্রণা, ব্যথা পাওয়ার পর সেটাকে দীর্ঘদিন পুষে রাখতে ভালোবাসি,
নাড়াঘাটা করতে ভালোবাসি....
দুর্ভাগ্যবশত আমাদের জীবনে খুশির মুহূর্তের চেয়ে শোকের মুহূর্তরা ঘুরেফিরে বহুবার আসে,
আর সেই কারণেই দুঃখ গুলো মনের ঘরে জমা হতে থাকে। জমা হতে হতে আমাদের মনের ঘরটা একটা ডাস্টবিনে পরিণত হয়.....
আর আমরা সেই ডাস্টবিনটাকে বয়ে বেড়াই,
উপুড় করে ঢেলে দিতে পারি না কোথাও!
ডাস্টবিনে জমা আক্ষেপ, হতাশা, অবসাদ, ব্যথাদের উপুড় করে ঢেলে দেওয়ার মতোও তো একটা জায়গা লাগে....
এই জায়গাটা আমরা সারাজীবন ধরে হাতড়ে বেড়াই, খুঁজে বেড়াই, তন্নতন্ন করে খুঁজি কিন্তু পাই না, যতবার খুঁজি, ততবার হতাশ হই।
আরো দুঃখ বাড়ে, আরো বেশি করে যন্ত্রণারা মনের ঘরে জমা হতে থাকে, পচে গলে গন্ধ বেরোয়, চোখের কান্না শুকোয়, কপালে ভাঁজ পড়ে, আর বুকের ভেতর দীর্ঘশ্বাস....
আমি কি বলি! দুঃখ যন্ত্রণা কোনোদিন কমবে না, বরং মানুষ যতদিন বাঁচবে, ততদিন একটু একটু করে বাড়তে থাকবে....
কাজেই আমাদের কাছে দুটো উপায় আছে, এক হলো নিজেকে শেষ করে দেওয়া যাতে নতুন করে আর দুঃখ না পাই, আর দ্বিতীয় হলো দুঃখ ও যন্ত্রণাদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া....
জীবনটা একটা দুরন্ত মাঠ, বেঁচে থাকাটা একটা পরিশ্রম, একটা লড়াই, একটা খেলা।
হয় আমাদের খেলাটা খেলতে হবে আর না হয় মাথা নীচু করে হেরে সরে যেতে হবে মাঠ থেকে....
অপশন দুটোই আছে, আমি দ্বিতীয়টা বেছে নিয়েছি, যে মুহূর্তে আমার দুঃখ বাড়ে, আমি সেই মুহূর্তে কান্নাদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে নিজেকে ভালো রেখে প্রমাণ করি এই খেলায় আমি জিতে গেছি.....
এটা একটা দারুণ খেলা, মদ না খেয়েও মাতাল হওয়ার খেলা, একবার মদ না খেয়ে মাতাল হয়ে দেখুন! হেব্বি আনন্দ হবে....
ফাঁকা রাস্তায় চিৎকার করে ভুলভাল বকতে বকতে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখুন, দারুণ লাগবে.....
স্টেশনে পড়ে থাকা একটা বাচ্চাকে দুটো ফুল কিনে দিন, হেব্বি আনন্দ হবে।
জীবনে আমরা অনেকবার পাগল হয়েছি অন্যের জন্য, একবার নিজের জন্য পাগল হয়ে দেখুন, চরম শান্তি পাবেন
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন